আলিয়ার পর যাদবপুরের তৃণমূল ছাত্র নেতার হুমকি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ‘কোন টিচারের কলার ধরতে হবে, আমাকে বলুন’
বাংলার জনরব ডেস্ক : আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন মোহাম্মদ আলী হেনস্তার ভিডিও বেশ কয়েকদিন আগে ভাইরাল হয় তা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। এরপর আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সময় শেষ হয়ে যায় তিনি চলে যান। মোহাম্মদ আলী তাঁর নিজ কর্মক্ষেত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। এবার সেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এলো। আলিয়ার ঘটনার নেপথ্যে ছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ আর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা। আলিয়াকে ছিলেন গিয়াস উদ্দিন মন্ডল আর যাদবপুরে বিতর্কিত মন্তব্য করে খ্যাতি লাভ করেছেন তৃণমূল ছাত্র নেতা সঞ্জীব প্রামাণিক। যদিও এই ভাইরাল ভিডিও সততা আমরা যাচাই করিনি তবে সঞ্জীব প্রামাণিক নিজেই সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন তার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। এই ভাইরাল অডিও কিপিংয়ে শোনা যাচ্ছে, ‘কোন টিচারের কলার ধরতে হবে, আমাকে বলুন।’
তিনি এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “কোন পরিস্থিতিতে কথাটা বলেছি, তার আগে কী বলেছি, পরে কী বলেছি, সব বিচার করতে হবে।” অর্থাৎ তিনি অস্বীকারও করেননি যে ওই অভিডো ক্লিপটি তাঁর নয়।

সঞ্জীবকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমরা ছাগলের তৃতীয় সন্তান হয়ে রয়েছি যাদবপুর ইউনিভর্সিটিতে। কেন…কেন? আমি আজকে দাঁড়িয়ে বলছি, কোন টিচারের কলার ধরতে হবে সঞ্জীব প্রামাণিককে বলো। এত বড় ক্ষমতা রাখে সঞ্জীব প্রামাণিক। আমার হিস্ট্রি, অ্যাক্টিভিটি অনেকে জানো না।’’
তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘‘আমি কাউকে নিজের ফুটেজ বা আমার বিষয়ে কিছু বলি না। যারা এই মিটিংয়ে প্রেজেন্ট আছো, তারা খুব কম জনই জানো আমার অওকাত সম্পর্কে। আজকে দাঁড়িয়ে জুটার কোন লোকের কলার ধরতে হবে, সঞ্জীব প্রামাণিক ধরে দেবে। কিন্তু বাকি কেউ পারবে না।’’
সঞ্জীবের অবশ্য দাবি, ‘‘কোন প্রসঙ্গে কথাগুলি বলা হয়েছে, সেটা আগে দেখতে হবে। গত ১২ বছর ধরে আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছি। যে ভাবে টিএমসিপির সদস্যদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়, ফেল করিয়ে দেওয়া হয়, যে ভাবে উচ্চশিক্ষায় তাঁদের বঞ্চিত করা হয়, যে ভাবে ক্লাসে একঘরে করে রাখা হয়— এ সব বিষয় নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে আমাদের।’’ এর পর তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং আমি নিজে প্রকাশ্যে এ ধরনের কোনও মন্তব্য সমর্থন করি না।’’
অডিও ক্লিপিং শুনলে মনে হবে যেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র নেতার অডিও ক্লিপ আর সঞ্জীব প্রামাণিক এর অডিও ক্লিপে একই চিত্রনাট্যের এপিঠ-ওপিঠ। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে হেনস্তাকারী তৃণমূল ছাত্র নেতা গিয়াস উদ্দিন মন্ডল দাবি করেছিলেন তিনি এমন চড় মারেন নাকি খুব লাগে। একইভাবে সঞ্জীব প্রামাণিক দাবি করছেন তার আওকাত কতটা তা কেউ জানে না।
আসলে তৃণমূল কংগ্রেস এই সকল ছাত্র নেতার নাম ধারী সমাজ বিরোধীদের প্রশ্রয় দিয়ে নিজেদের দেউলিয়া রাজনীতি বারবার প্রমাণ করেছে। যদিও এখনো পর্যন্ত এই ভাইরাল অডিও ক্লিপ ইন সম্পর্কে ক্লিপিং সম্পর্কে তৃণমূল নেতৃত্বের কোনো বিবৃতি সামনে আসেনি তবে মনে করা হচ্ছে এটা কেউ একটু কটু কথা খারাপ বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিহিত করবেন।

